অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা

অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা বীরভূম জেলার একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী মহিলা, যিনি বীরভূমের মাসিমা নামে বহুল জনপ্রিয় ছিলেন। যেখানে গোটা বিশ্বের বেশির অংশ দাসত্ব করছিল ইংরেজদের, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বীরভূমের মাসিমার ভয়ে ইংরেজরা সদা ভীত-সন্ত্রস্ত। যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন, আর নিজের দুধের শিশুকে রেখেও জেলে যেতে দ্বিধা বোধ করেন নি।
এতক্ষন যাঁর কথা বলছি, তিনি অর্থাৎ বীরভূমের মাসিমা হলেন দুকড়িবালা দেবী। জন্ম এই বীরভূম জেলাতেই ঝাউপাড়ায়। ২১ শে জুলাই ১৮৮৭ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। স্বামীর নাম স্বামীর নাম ফনিভূষন চক্রবর্তী। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন মহিলা বিপ্লবী। দুকড়িবালা দেবীর বোনপো নিবারণ ঘটক ছিলেন সশস্ত্র বিপ্লববাদী। তারই প্রভাবে দুকড়িবালা দেশের কাজে এগিয়ে আসেন। বিপ্লবী দলে ‘মাসীমা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃস্বাধীনতা সংগ্রামে বীরভূম

Loading...

১৯১৪ সালে কলকাতায় বিপ্লবী বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯১৪ সালের ২৬ শে আগষ্ট কলকাতায় রডা কোম্পানীর মাউজার পিস্তল ও তার কার্তুজের ৫০ টি বাক্স লুট হয়। সেই লুঠের কিছু অংশ আসে নিবারন ঘটকের কাছে, তার দেওয়া সাতখানি মাউজার পিস্তল ও কার্তুজ নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রাখেন দুকড়িবালা। বীরভূমের বিপিন গাঙ্গুলী এই লুঠের নেতৃত্ব দেন। নিবারণ বাবুর সহায়তায় নিবারণ বাবুর মাসি দুকড়িবালা দেবীর কাছে কিছু পিস্তল ও কার্তুজ লুকিয়ে রাখেন। পুলিশ খবর পেয়ে ৮ জানুয়ারি ১৯১৭ সালে তার বাড়ি তল্লাশি চালায় এবং দুকড়িবালা দেবী গ্রেপ্তার হন। কোলের শিশুকে ছেড়ে তাকে জেলে যেতে হয়। সিউড়ী স্পেশাল ট্রাইবুনালে দুকড়িবালা দেবী ও নিবারণ বাবুর বিচার হয়। সুরধুনী মোল্লানী রাজসাক্ষী হলেও মামলা ঠিকমত দাঁড়ায় নি। নিবারণ বাবুর ৫ বছর ও দুকড়িবালা দেবীর ২ বছরের জেল হয়। ৯/৩/১৯১৭ দুকড়ি বালা দেবীই পরাধীন ভারতে অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা। ১৯১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ২৮ শে এপ্রিল ১৯৭০ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।দুকড়িবালা দেবী

Loading...

You May Also Like